চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ বছরের বেশি সরকারি চাকরি থাকা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, গোটা পৃথিবী খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কেউ সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করলে সে আর নিজেকে বদলায় না।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’র ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রযুক্তির গতি এত দ্রুত যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি নীতি-প্রণেতা দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। কারণ সে বসছে যে সময় সেটি কালকে পাল্টে যাচ্ছে, কিন্তু সে নিজে পাল্টাচ্ছে না। কাজেই এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে যেতে হলে, যারা পরিবর্তনগুলো দেখেছে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজের মতো করে বলি এটা, কেউ হয়তো সিরিয়াসলি নেয় না।
আমি বলি, সরকারি কর্মচারী ৫ বছরের বেশি সরকারে থাকা ঠিক নয়। কারণ তার মন একটা কাঠামোর মধ্যে স্থির হয়ে গেছে, এ থেকে বের হতে পারছে না। আবার নতুন লোক, যারা বাইরে থেকে দেখছে, তাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে।
ড. ইউনূস বলেন, প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে যদি এমন কেউ থাকে, যিনি প্রযুক্তি সম্পর্কে ৩০ বছর আগে বোঝাপড়া অর্জন করেছিলেন, ৩০ বছরে সারা দুনিয়া বদলে গেছে। সে তখন যা পেয়েছে, সেটাই তার কাছে আছে। এটা তার দোষ নয়। কাজেই যারা বর্তমান পরিবর্তন অনুভব করছে, তাদেরকে আসতে দিতে হবে। প্রতিনিয়ত পরিবর্তন, প্রতিনিয়ত নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি গড়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এই বিষয়টি খুব একটা ভাবছে না। তাই কতটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে, তা আমরা দেখছি। পুরোনো বস্তা ঘেঁটে নিয়মনীতি নিয়ে আসে। এটার ওপর সংশোধন করতে হবে। মূলটা পাল্টায় না। ওই যে বৃটিশ সরকার ধরিয়ে দিয়ে গেছে যেই নীতি, ওই নীতির ওপরই সে সংশোধন আনছে। ওটার তো মূল জিনিসেই গোলমাল। নতুন করে করাতে অসুবিধা কী? সব ঠেকার কাজ করে। আমার ঠেকা সামলানো, আমার প্রমোশন হবে আমি অন্য জায়গায় চলে যাবো। রাজনীতিবিদও তাই।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমার মনে হয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের পর পর নতুন করে গড়ে তোলা উচিত। একদম গোড়া থেকে। কারণ এ সময়ে পৃথিবী বদলে গেছে, নিয়মকানুন ও লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে, সে সেখানে স্থির হয়ে বসে আছে। এই পরিবর্তনগুলো আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রথাগত আচরণ হলো পুরোনো আঁকড়ে থাকা। আর প্রযুক্তির কাজ হলো সেই পুরোনো কাঠামো ফেলে দেওয়া। এই দ্বন্দ্বে প্রযুক্তিকেই জয়ী হতে হবে। নইলে আমরা জেতার সুযোগ হারাব। আমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে, কিন্তু আমরা ফলোয়ার হয়ে বসে আছি।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






