ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক এই আসরের মূল আয়োজক ভারত। পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে থাকছে শ্রীলঙ্কা। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। তবে তার আগে বড় বাধার সম্মুখীন হয়েছে মূল আয়োজক ভারত।

মূলত ভারতে হানা দিয়েছে নিপাহ ভাইরাস। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত পাঁচজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতার অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যা বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে বড় বাধা।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতে নিপাহ ভাইরাস ধরা পড়ার পর থেকে এশিয়ার অনেক দেশে ভারত-ফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। অবস্থা বেগতিক হলে ফিরে আসতে পারে কোয়ারেন্টিনের যুগ।

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের সভাপতি ডা. নরেন্দ্র কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ১০০ থেকে ২০০ জনের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিপাহ ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন নেই। ফলে ভারতে কোভিড-১৯ এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন ও সংস্থাগুলো ভারতে ছড়িয়ে পড়া নিপা ভাইরাস নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে খবর বের করেছে জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ অনেক সংবাদমাধ্যম। এবং কেউ কেউ পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরানোর পরামর্শ দিয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আউটব্রেক ছোট আকারের। তবে আইসিসি এ নিয়ে এখনও কোনো কিছু ঘোষণা করেনি।

টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কথা, যা পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সংক্রমণ যদি আরও ছড়ায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, অফিশিয়াল ও ফ্যানদের ট্রাভেলে বায়োসিকিউরিটি নিয়ম কঠোর হতে পারে। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং বাড়ছে (এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে শুরু করেছে)। কোয়ারেন্টিন বা ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন ফিরে আসতে পারে, যা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকদের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলবে।

এর আগে ২০২৫ সালে কেরালায় ৪টি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়। পশ্চিমবঙ্গে এটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক।

নিপাহ একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস, যা অত্যন্ত প্রাণঘাতী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে এর সংক্রমণে মৃত্যুহার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য।

নিপাহ ভাইরাস যদি ভারতে মহামারীর রূপ নেয়, সে ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করা আদৌ সম্ভব হবে কি না এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top