চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইয়াসিন প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, অভিযানের নামে ঢালাওভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো ‘ঝামেলা’ হলে বড় ধরনের ‘জনবিস্ফোরণ’ ঘটবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে বসে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ২৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে ইয়াসিন নিজেকে সন্ত্রাসী নয় দাবি করে বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা আমাদের কেনা সম্পত্তি। এখান থেকে কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। এর আগে ডিসি সাহেব উচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজেই উধাও হয়ে গেছেন।”
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “কাউকে ধরতে হলে অভিযানের আগে আসামির নাম-ঠিকানা জানাতে হবে। এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে। আর এই দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।”
ভিডিওতে ইয়াসিন সোমবারের র্যাবের অভিযানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জঙ্গল সলিমপুরের অস্থিরতার জন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রোকন উদ্দিনকে দায়ী করেন।
গত সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আসামি ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র্যাব।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইয়াসিনের নির্দেশেই রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাবের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা র্যাবের আটক করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। চারজন র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়, যাদের পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।
মামলায় ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে জানা যায়, ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করছেন। যদিও আসলাম চৌধুরী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই বলে জানিয়েছেন।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





