সীতাকুণ্ডে গরু ডাকাতির আতঙ্ক, খামার থেকে ৭টি গরু লুট

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একের পর এক গরু ডাকাতির ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খামার থেকে গরু লুটের ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক এলাকায় একটি খামার থেকে ৭টি শাহিওয়াল জাতের গরু লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোর চারটার দিকে সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ব্রাদার্স অ্যাগ্রো নামের খামারে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় ডাকাতরা মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া নামে খামারের এক কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ডাকাতদল খামারের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে কয়েকজন ডাকাত বাচ্চু মিয়ার গলায় ছুরি ধরে তাকে জিম্মি করে। তিনি চিৎকার শুরু করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে মাথায় দুটি কোপ দেওয়া হয়। এরপর আঘাত করে তার পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়।

ব্রাদার্স অ্যাগ্রোর মালিক সাজেদ চৌধুরী বর্তমানে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে খামারের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন বাচ্চু মিয়া। ডাকাতরা খামার থেকে ছয়টি ষাঁড় ও একটি গাভি নিয়ে যায়। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানা গরু ডাকাতির ঘটনার কথা শোনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন এনআই এগ্রো ফার্মে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় ডাকাতদল খামার মালিকসহ দুইজনকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ১২টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো গরুগুলোর কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।

ধারাবাহিক এসব গরু ডাকাতির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

চাটগাঁ নিউজ/দুলু/এমকেএন

Scroll to Top