আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন হামলার মুখে ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ গ্রহণ করেছে বলে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে। দেশে যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে আইআরজিসির বিমানবাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন।
আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির বিমানবাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে ‘‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিতে’’ রয়েছে এবং যেকোনও আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা মেরামত করা হয়েছে। ফলে আমাদের বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, ইরানে হামলা চালানো হলে শত্রুপক্ষের জন্য ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি জোরালো করেছেন। তার এমন হুমকির পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিরজাদেহ ওই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আজিজ নাসিরজাদেহ বলেন, এই হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে এবং শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দেশকে রক্ষা করব। আমাদের প্রতিরোধ তাদের জন্য হবে যন্ত্রণাদায়ক।
মার্কিন আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের হামলায় যারা সহায়তা করবে, তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত করবে তেহরান। নাসিরজাদেহ বলেন, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা মেরামত করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রসহ সামরিক উৎপাদন সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের পথ আপাতত স্থগিত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি জোরদার করার মাঝেই দেশ দুটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ স্থগিতের এই খবর এসেছে। টানা দুই সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর ইরান কঠোর অবস্থান নেওয়ায় দেশটিতে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানে যেকোনও ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে প্রতিবেশীদের সতর্ক করে দিয়েছে তেহরান।
সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ







