চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের অন্যান্য মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে এক বাংলাদেশি সাংবাদিককে দেয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, দেশের ভেতরেই আট মাসের মতো ছিলেন। ধরা পড়ার ভয়, নিরাপত্তার কারণে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল সিম পরিবর্তন করেছেন ছয়বার। চেহারাতেও এনেছেন বড় ধরনের পরিবর্তন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
তবে কীভাবে দেশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। সব বলা সম্ভব নয়, এখনও সময় আসেনি। তবে সত্যি বলতে, সরকারি লোকজনই আমাকে সাহায্য করেছে।’
ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ড. মোমেন আরও জানান, গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেন। আর তিনি আসার পরপরই গণ-অভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে।
আব্দুল মোমেন এই বিষয়ে বলেন, ‘এটা এক ধরনের সিনেমার মতো। একটা সুন্দর মুভি হবে। আমি দেশ ছাড়ার সময় শেষ মানুষ ছিলাম। আমি কোনো অন্যায় করিনি, কাউকে জেলে পাঠাইনি, চুরি-চামারি করিনি। তাই ভেবেছিলাম, আমি কেন পালাব?’
ড. মোমেন আরও বলেন, ‘কিন্তু যখন কর্নেল সাব ফোন করে বললেন, ‘স্যার, আমরা আপনাকে রক্ষা করব’, তখন আমার সবাই বলল, ‘স্যার, আপনার নাম্বার তারা পেয়েছে। এখান থেকে চলে যান।’ তখন বাধ্য হয়ে পালাতে হলো।’
তিনি বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাইনি। সব আত্মীয় স্বজন পাবলিকলি পরিচিত। তাই আমি অন্যদের ভাড়া বাসায় ছিলাম। এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় থেকে কিছুটা নিরাপদ ছিলাম। বাসা সুন্দরভাবে রাখতেন, তাই আমি সেখানে থাকতে পারতাম। দেশে কেউ আসে না, ঢাকায় মানুষও ভয় পায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি নিরাপদভাবে থাকতে পেরেছিলাম।’
পালানোর সময় চেহারা পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম যাতে কেউ চিনতে না পারে। নাপিতের কাছে গেলাম। এক বাসায় সময়মতো দেখা করি। ওই নাপিত কাউকে বলতে পারবে না কোথায় দেখা হয়েছে। এটা দীর্ঘ গল্প, অনেক কষ্টে বের হয়েছি। আমার স্ত্রী ও তার বুদ্ধি সাহায্য করেছে।’
কথা শেষ করে ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশ যেন জঙ্গি দেশ না হয়, সেজন্য সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে।’
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






