মহেশখালী প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম এ মান্নান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, কোল পাওয়ারের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তা প্রধান, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের আদেশ পেয়েছি। যেসব বিভাগকে কমিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদের নাম খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে। সবার নাম চূড়ান্ত হলে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৯ ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। স্বাভাবিক রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয়। পরে মহেশখালী, চকরিয়া এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব দুটি ইউনিটসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনার ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পথশিশুদের আনাগোনা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এবং পুকুরসদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এডিসি (রাজস্ব) কে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন






