ইরানের হাসপাতালগুলোতে মরদেহের স্তূপ, নিহত বেড়ে ১৯২ 
হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় এত মানুষ হতাহত হয়েছে যে অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সংঘর্ষে নিহতদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। ফলে মরদেহ রাখার জায়গা হচ্ছে না হাসপাতালগুলোতে।

অন্যদিকে হাজারের ওপর আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতালগুলোর কর্মীরা।

নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহতের বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ। ফলে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ইরানের তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তাদের হাসপাতালগুলাে সংঘাত-সহিংসতায় আহত ও নিহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়ছে। হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে।

তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলি লেগেছে।”

এদিকে, ইরানে সহিংস পদ্ধতিতে বিক্ষােভ দমনের জবাব সামরিক হামলার মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে পুনরায় হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান অভিযােগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষােভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুর’ এর রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের অভিযােগের জবাবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়ত অন্য যে কােনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরােপুরি প্রস্তুত।’’

দুই সপ্তাহ আগে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি দিয়ে দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষােভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে সে বিক্ষােভ দেশটির সব প্রদেশে এবং শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমে তা সহিংস হয়ে ওঠে।

স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।

রাশত্ শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালের মর্গে এত মরদেহ রাখার জায়গা ছিল না, ফলে অনেক মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনার পর হাসপাতালটিতে রোগির চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, আহতদের কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) করার পর্যন্ত সময় ছিল না বলে জানান সেখানকার চিকিৎসকরা।

তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, প্রায় ৩৮ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে যাদের মাথায় ও হৃদপিণ্ডে সরাসরি গুলি লেগেছে। এছাড়া গুলিতে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন। সংঘর্ষে এত বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যে মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা নেই। এ অবস্থায় একটির ওপর আরেকটি মরদেহ রাখা হয়। এক পর্যায়ে মর্গে জায়গা না হওয়ায় প্রার্থনা কক্ষে নিয়ে গিয়ে মরদেহগুলো স্তূপাকারে রাখা হয়। হতাহতদের বেশিরভাগই তরুণ। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

মরদেহ হস্তান্তরের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজনদের কাছে সাত বিলিয়ন রিয়াল, যা প্রায় সাত হাজার মার্কিন ডলারের সমান অর্থ চেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিবিসি-সহ বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ইরানের ভেতর থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলে তথ্য পাওয়া ও যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top