আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি’ করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে। বিদেশিদের ‘ভাড়াটে’ হিসেবে যারা কাজ করছে। তেহরান তাদের কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত এক ভিডিও ভাষণে খামেনি বলেন, ‘তেহরান ও দেশের বিভিন্ন স্থানে একদল ভাঙচুরকারী বেরিয়ে এসেছিল, এবং তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য তাদের নিজের বাড়িঘর ধ্বংস করেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর কয়েকদিন পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফায় তেহরানের শাসকদের হুমকি দেন। বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারে যেতে প্রস্তুত আছে। ট্রাম্প সেদিন ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন। সাধারণত আক্রমণের জন্য প্রস্তুত অর্থে এটি ব্যবহার করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ট্রাম্প তোমাদের দেশের ক্ষতি চান। দেশের জন্য শত্রুদের তিনি সমর্থন করেন। ট্রাম্পের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সক্ষম হয় তবে তার নিজের দেশ চালানো উচিত।
১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের এই নেতা আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে শহীদ হওয়া এক হাজারেরও বেশি ইরানিকে হত্যা করেন ট্রাম্প। তার হাত রক্তে রঞ্জিত।
তিনি আরও বলেন, দেশের একদল অজ্ঞ লোক তাকে বিশ্বাস করে এবং তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে। তাকে খুশি করার জন্য আগুন ধরিয়ে দেয়।
খামেনি বলেন, সবাইকে জানাতে হবে, কয়েক লাখ সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র এসেছে। যারা এটি অস্বীকার করে তাদেরকে প্রতিরোধ করা হবে, পিছু হটবে না।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে ১২ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৩১ প্রদেশের মধ্যে ২৫টিতে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই কয়দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।
গত কয়েক বছরের মধ্যে চলমান বিক্ষোভ সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২-২৩ সালে পুলিশ হেফাজতে মাশা আমিনিকে হত্যার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল। অর্থনৈতিক সংকট ও গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নতুন করে বিক্ষোভ খামেনি প্রশাসনকে চাপের মুখে ফেলেছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ







