নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তাঁর সম্পদ, আয় ও ঋণের নানান তথ্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বিপুল সম্পদের মালিক হলেও তার নিজ নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ২৮ হাজার ৫৮৭ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, গিয়াস কাদের চৌধুরীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২১ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ৬১ টাকা। এর মধ্যে হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৩২ হাজার ১৫৪ টাকা। তবে দুইটি ব্যাংক হিসাবে জমা আছে মাত্র ২৮,৫৮৭ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের বড় অংশ এসেছে শেয়ার ও বিনিয়োগ থেকে। বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়—এমন কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ২১৪ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২০ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্যের অধিগ্রহণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে গিয়াস কাদের চৌধুরীর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬ টাকা।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী মিনা পারভীন কাদের চৌধুরী পেশায় গৃহিণী হলেও তার নামে ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৮ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ ২৮ হাজার ৬৩৬ টাকা। তার একমাত্র ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৩০ হাজার ৩০২ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়—এমন কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৪৮ লাখ ১৫ হাজার ৩৬৩ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া তার ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ৪৬ লাখ ৪ হাজার ৩৫০ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে স্ত্রীর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকার গুলশান ও বনানীতে স্ত্রীর মালিকানাধীন দুটি ফ্ল্যাটের অধিগ্রহণকালীন মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
এছাড়া গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৬ টাকা।
দায় সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, গিয়াস কাদের চৌধুরীর নিজের নামে কোনো দায় নেই বলে উল্লেখ করা হলেও তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে রয়েছে ঋণ। হলফনামা অনুযায়ী, স্ত্রীর নামে আইএফআইসি সিকিউরিটিজ লিমিটেডে মার্জিন লোন রয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৭ টাকা এবং ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে বাই মুরাবাহা বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার ৪৬৬ টাকা।
এছাড়া তিন সন্তান—সামির কাদের চৌধুরী, সামিহা কাদের চৌধুরী ও সাজিয়া কাদের চৌধুরীর নামে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে হোমলোন রয়েছে যথাক্রমে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা, ৫ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৫ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা।
এদিকে, ব্যক্তিগত কোনো ঋণ না থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে গিয়াস কাদের চৌধুরীর নামে পাঁচটি বড় অঙ্কের ঋণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি (প্রধান শাখা, মতিঝিল) থেকে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক পিএলসি থেকে ১৬৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক পিএলসি থেকে ২০১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি থেকে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ব্যাংকের ঋণই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পুনঃতফসিল করা হয়েছে।
আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছর (২০২৫–২৬) গিয়াস কাদের চৌধুরীর আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ৩১ লাখ টাকা। সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৬ টাকা এবং প্রদত্ত আয়কর ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে, তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ২১ লাখ ১১ হাজার ২২৪ টাকা, সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্রদত্ত আয়কর ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৩২ টাকা।
চাটগাঁ নিউজ/এফএস/এসএ






