নগরে নতুন আতঙ্ক ব্যাটারিচালিত রিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনা-ছিনতাই!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার পতনের পর থেকে নগরীর অলি-গলি ছাড়িয়ে মূল সড়কেও দাপিয়ে চলছে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ট্রাফিক ব্যবস্থার ‍দুর্বলতার সুযোগে সব সড়কে বেপরোয়া এসব রিকশার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এই অবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নতুন এক আতঙ্ক হয়ে সামনে এসেছে। এই রিকশা ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা নেমেছে ছিনতাইয়ে।

দ্রুত গতির তিন চাকার ছোট বাহন যেন ছিচকে চোরদের কাছে সব চাইতে বেশি পছন্দের হয়ে উঠেছে। এসব রিকশার দ্রুত গতির কারণে চোরদের দৌড়ে ধরাও বেশ মুশকিল। আর আকৃতিতে ছোট হওয়ায় যেকোন অলি-গলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়াও বেশ সহজ।

ছিনতাইয়ের শিকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের একাংশ পায়ে হেঁটেই গণছিনতাই করছে৷ তবে তাদেরই একটি অংশ আবার ছিনতাই কাজে ব্যবহার করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। রিকশাগুলো দ্রুত গতির কারণে ধরা যায় না। পথচারিদের কাছ থেকে মোবাইল, মালামাল, নগদ টাকা ছোঁ মেরে নিয়ে পালিয়ে যায়।

নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। কর্মস্থল কাছে হওয়ায় প্রায় সময় হেঁটেই যাতায়াত করেন। কয়েকদিন আগে ছিনতাইকারির খপ্পড়ে পড়ে শখের দামি মোবাইলটা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, রাস্তায় খুব বেশি মানুষ ছিল না, কাজ শেষে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলাম। একটা কল আসায় মোবাইল কানে দিতেই হঠাৎ পেছন থেকে একটা অটোরিকশা এসে সামনে থামায়। ড্রাইভারসহ মোট তিনজন ছিল। তারা কিছু না বলে একটা ছুরি দেখিয়ে আমার মোবাইলটা নিয়ে মুহূর্তেই একটা গলির ভেতর গায়েব হয়ে যায়।

ছিনতাই কাজে জড়িত একজন সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা কম হওয়ায় তারা ছিনতাইয়ে জড়িয়েছেন। ছিনতাই কাজে ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবহারের বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে তিনজনের বেশি বসা কঠিন। তবে ব্যাটারির রিকশায় চার থেকে পাঁচজন অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে দল ভারী থাকে। পাশাপাশি ছিনতাইয়ে ব্যবহার হওয়া দেশীয় অস্ত্রও ব্যাটারিচালিত রিকশায় বহন তুলনামূলক সহজ। আবার মোটরসাইকেল যোগে ছিনতাই করলে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেখে তাদের শনাক্ত করা যায়। অপর দিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় রেজিস্ট্রেশন নাম্বার থাকে না। ফলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করাও সহজ হয় না।

এ বিষয়ে নগরীর সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, দ্রুত গতির হওয়ায় ব্যটারিচালিত অটোরিকশায় পালিয়ে যাওয়া বেশ সহজ। তাই ছিনতাইকারীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেছে নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যদিও চুরি ছিনতাই নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে। প্রায় সময় ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও নগরীর প্রধান সড়কে অটোরিকশা দেখলেই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা দিয়ে শুধু ছিনতাই বেড়েছে তা নয়, বেপরোয়া গতির কারণে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি অটোরিকশায় দুর্ঘটনার শিকার আলকরণ এলাকার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঠেকায় পড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ওঠা। ওরা এত জোরে চালায় যে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। পারলে হাওয়ায় ভাসে।’ যার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। ’

এলাকার কেউ কেউ বলছেন, রাস্তা ভালো হলেও ঝুঁকি, আবার ভাঙাচোরা হলেও বিপদ। রতন নামে একজন বলেন, ‘ভালো রাস্তা হলে অনেক অটো জোরে চালায়। যার জন্য স্পিডব্রেকারেও থামে না। আবার ভাঙা রাস্তায়ও জোরে চালায়। একজন আরেকজনের রিকশায় লাগিয়ে দিয়ে নিজেরা নিজেরা ঝগড়া করে। আমরা বসে বসে দেখি।’

চাটগাঁ নিউজ/এইচএস/এসএ

Scroll to Top