বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ— শেষতক ‘বরখাস্ত’ হলেন রেলের আনসার আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনায় বহুল আলোচিত বাংলাদেশ রেলওয়ের উপপরিচালক (টিসি) মো. আনসার আলীকে অবশেষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘চাটগাঁ নিউজ’- এ ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ- উপদেষ্টার কাছে ‘রেল কর্মকর্তা’র বিরুদ্ধে অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর রেল পাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন রেলওয়েতে কর্মরত বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এরপর ‘চাটগাঁ নিউজ’-এ ‘পরকীয়ার দোষ ঢাকতে রেল কর্মকর্তা আনসার আলীর দৌড়ঝাঁপ!’ শিরোনামে আবারো সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসেন তদন্ত কমিটি। এরপরই বরখাস্ত হন উপপরিচালক (টিসি) মো. আনসার আলী। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে রেল সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে আনসার আলীর বরখাস্তের তথ্যটি জানা যায়।

প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক অসদাচরণের অভিযোগে বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আনসার আলীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

এছাড়াও প্রজ্ঞাপণে আরও বলা হয়, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার শিরিন আক্তারের সাথে ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন রেলওয়ের উপপরিচালক (টিসি) মো. আনসার আলী। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন শিরিন আক্তারকে। শিরিন বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে আনসার আলী তার সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে বাধ্য হয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন শিরিন আক্তার।

বিষয়টির তদন্তে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। অবশেষে ফাহিমুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে আনসার আলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কর্যকর হয়।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার চাটগাঁ নিউজকে বলেন, আমি তো তার চাকরি যাক তা চাইনি, আমি চেয়েছি তাকে বিয়ে করতে। সে শুধু তার চাকরি হারিয়েছে, আর আমি হারিয়েছি আমার সম্ভ্রম।

তবে এ ব্যাপারে জানতে উপপরিচালক (টিসি) মো. আনসার আলীর মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন ঘটনা রেলওয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। আমাদের পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। এছাড়াও এমন পরিস্থিতি রেলওয়েতে কর্মরত নারী কর্মীদের মনে সংশয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, রেলওয়েতে এমন ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে যদি প্রশাসনিক ও আইনগত শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হতো তবে অন্যরা এসব অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সাহস পেত না। তবে এবার আনসার আলীর বরখাস্তের পর অন্যরা কোনো অপকর্ম করার আগে কয়েকবার ভাববে।

তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিরিন আক্তারও পড়েছেন বেশ সমালোচনার মুখে। রেল সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক, জোর করে কিছু হয়নি। তাহলে শিরিন আক্তার নিজেকে ধর্ষিতা কিভাবে দাবি করেন?

জানা যায়, ৩১ বছর বয়সী শিরিন আক্তারের এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। ওই ঘরে ছয় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে কোন এক অজানা কারণে শিরিনের ওই বিয়ের সম্পর্কও বেশিদিন টিকেনি।

এদিকে, অনেকেই বলছেন, ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে আনসারকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তাহলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো কখন? তাছাড়া ওই ছবিটি শিরিন নিজেই তুলে রেখেছিলেন। এর মানে ওই মেয়ের মনে নিশ্চয় দুরভিসন্ধি ছিল।

চাটগাঁ নিউজ/এইচএস/এসএ

Scroll to Top