নিজস্ব প্রতিবেদক: জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংকের ৪৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান সরকারের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক মো মুর্তুজা আলী। আদালত পর্যালোচনা সাপেক্ষে এ অর্থ আত্মসাত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে সূত্রে জানা গেছে, ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালক মো মুর্তুজা আলী ২০১৭ সালে ইস্টার্ন ব্যাংক ও আর নিজাম রোড শাখার ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা করেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরামর্শে ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় স্থায়ী আমানত করার জন্য নিজের একাউন্টে মোট ৬ কোটি ১০ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন।
২০১৯ সালে বিদেশে থাকাবস্থায় তিনি জানতে পারেন চান্দগাঁও শাখায় দুইটি জাল সঞ্চয়ী একাউন্ট ও চারটি জাল ঋণ একাউন্টের মাধ্যমে মুর্তুজা সমস্ত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ সালের ১৪ জুলাই, ২৭ সেপ্টেম্বর, ও ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মুর্তুজা তার একাউন্ট নিয়ে করা সমস্ত প্রতারণামূলক কার্যকলাপের কথা উল্লেখ করে পাওনা পরিশোধের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক বরাবরে একটি চিঠি, একটি রিমাইন্ডার চিঠি ও দুটি আইনি নোটিশ পাঠান। কিন্তু ব্যাংক তার পাওনা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
মুর্তুজার দাবি, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সম্ভাব্য পাওনার পরিমাণ ১১ কোটি টাকা। যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। ইস্টার্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তারা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আমার টাকা আত্মসাত করেছে। আমি এসব দুর্নীতিবাজ অর্থ আত্মসাতকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তাই আজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে মুর্তুজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলান বিন মনজোর তামিম বলেন, সুক্ষ্ম কারচুপি জালিয়াতির মাধ্যমে আমার মক্কেলের সমস্ত জমাকৃত টাকা একটি চক্র আত্মসাৎ করেছে। এজন্য চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে ফৌজদারি অভিযোগের ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
চাটগাঁ নিউজ /ইউডি/এমকেএন