৫৮ বছরেও সংস্কার হয়নি কাপ্তাইয়ের বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ, দুর্ঘটনার শঙ্কা

ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই (রাঙামাটি) : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কাপ্তাই ইউনিয়নের দ্বীপাঞ্চলে অবস্থিত বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ ৫৮ বছরেও সংস্কার করা হয়নি মসজিদটি। এতে মসজিদটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকেন মুসল্লিরা। একই সঙ্গে সকালে মক্তবে কোরআন শিখতে আসা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, মসজিদটির চারপাশে কাপ্তাই লেকের পানি। দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এই বাঁশকেন্দ্র এলাকায় প্রায় ৬০০ পরিবারের বসবাস। তাঁদের অধিকাংশই লেকে মাছ শিকার, নৌকা বা সাম্পান চালানো, দিনমজুরি এবং মৌসুমি ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে নিজেদের উদ্যোগে মসজিদটির সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, মসজিদটির অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। চারপাশের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় বর্ষাকালে নামাজ আদায়েও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মসজিদের ওজুখানার অবস্থাও নাজুক।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়ে গেলে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেক মুসল্লিকে মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

এছাড়া, প্রতিদিন সকালে শিশু-কিশোরেরা মক্তবে কোরআন পড়তে আসে। জরাজীর্ণ ভবনে তাদের পাঠদান করাতে গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন।

মসজিদের মুসল্লি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি কাপ্তাই লেকে সাম্পান চালিয়ে সংসার চালাই। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে। চারপাশে ফাটল ধরেছে, ওজুখানার অবস্থাও ভালো নয়। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে মসজিদটি নতুন করে নির্মাণ বা সংস্কার করে দিলে আমরা নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারতাম।’

এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মনসুর মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন আগে দ্বীপের মধ্যে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাঁরা দিন এনে দিন খায়। নিজেদের সংসার চালাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় মসজিদ সংস্কার করা তো দূরের কথা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি মসজিদটির সংস্কারে বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মসজিদের ইমাম হাফেজ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মসজিদটির চারপাশে ফাটল ধরেছে। অবকাঠামোও দুর্বল। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে গিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন কী ঘটে যায়।

৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, যদিও ওই জায়গাটি কর্ণফুলি পেপার মিল লিমিটেডের। তাঁরাই মসজিদটি করেছিলেন, পরবর্তীতে যদি বাজেট আসে তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে সংস্থার করা হবে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top