চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে মায়ের জন্য নির্ধারিত একটি ইনজেকশন ভুল করে নবজাতক শিশুকে পুশ করার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শিশুটির মায়ের জন্য নির্ধারিত ইনজেকশনটি দিতে গেলে শিশুটির মা নার্সকে জানান, সেটি তার জন্য নির্ধারিত। এ সময় তিনি নবজাতককে ইনজেকশন না দেওয়ার জন্য নার্সকে বাধা দেন। তবে মায়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নার্সটি শিশুটিকেই ইনজেকশনটি পুশ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শিশুটির বাবা মো. হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী নার্সকে বলেছিল, ইনজেকশনটি তার জন্য নির্ধারিত এবং শিশুকে কেন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নার্স বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে ধমক দেন। এরপর মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও আমাদের নবজাতককে ইনজেকশনটি দেওয়া হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ওই নার্স মাত্র দুই মাস আগে হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনভিজ্ঞ হলে তাকে কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু সংশ্লিষ্ট নার্স নয়, পুরো ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও হাসপাতালে যায়। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। প্রাথমিকভাবে ভুল করে নবজাতককে ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকেরা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে সিএসসিআর কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. মোরশেদুল করিম চৌধুরী জানান, বিষয়টি জানার পর দুইজন কনসালটেন্টকে ডেকে শিশুটিকে পরীক্ষা করানো হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় শিশুটি স্বাভাবিকভাবে কান্না করছিল এবং মায়ের দুধও পান করেছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঝুঁকি এড়াতে শিশুটিকে আপাতত হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর শিশুটির রক্ত পরীক্ষা করা হবে। তার শারীরিক অবস্থায় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





