চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫ কোটি টাকার নির্মাণকাজ পেতে জাল নথিপত্র ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হলো।
রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ পেতে জালিয়াতির অভিযোগে ২০২০ সালের নভেম্বরে জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অপর আসামি ছিলেন দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরী।
তদন্তে ফজলুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ না পাওয়ায় ২০২৫ সালে দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে রয়েছেন জি কে শামীম।
মামলার এজাহার ও দুদকের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করা হয়। জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে লিড ফার্ম এবং দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে পার্টনার ইনচার্জ দেখিয়ে যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ৭৫ কোটি টাকার নির্মাণকাজ পায় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স-জি কে বি এল (জেভি)। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
দুদকের অভিযোগ, কাজ পেতে দরপত্রের সঙ্গে দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রে জালিয়াতি করা হয়। কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সঙ্গে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করে নিবন্ধন দেখানো এবং নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি শেয়ার দেখিয়ে দরপত্র জমা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, গত পাঁচ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ করার সনদ এবং অতীতের ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণের বিষয়ে জাল কাগজপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ৭৫ কোটি টাকার এ কাজ পেতে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স-জি কে বি এল (জেভি) প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল।
এদিকে ওই নির্মাণকাজের দরপত্রকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সে সময় অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দরপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত) একাংশের বিরুদ্ধে।
ওই বিরোধের মধ্যে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যু হয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তখন অভিযোগ করেছিলেন তার পরিবার ও অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





