চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চাঁদপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুকে সপরিবারে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায় চাঁদপুর সদর থানা পুলিশ।
জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালায় এবং তার পরিবারের চার সদস্যসহ আটক করা হয়।
চাঁদপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালামের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি জানান, আটকের পর তাদের চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে জানতে পেরেছি।
এর আগে চাঁদপুর সদর থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে ছিলেন। বিষয়টি না জেনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়াচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।
আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন- পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
পিন্টু দাসের আত্মীয় উপমা দে জানান, পিন্টু তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিন্টু বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে- স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন।
একাধিকবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখা হতো।
রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান জানান, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।
তিনি আরো জানান, স্বর্ণ ফেরত ও টাকা না পাওয়ায় তিনি গত ২৪ আগস্ট পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





