চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের একটি মদের বারে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে নাজিবুল রাশেদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত যুবক মো. সোলাইমানকে গণপিটুনি দিলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদের বাড়ি শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এবং সোলাইমানের বাড়ি নুনিয়ারছড়া এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রাশেদ, পরে আহতাবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে মারা যায় সোলাইমান।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে গুরুতর আহতাবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে প্রেরণ করা হলে সেখানে আজ শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
বার কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রাশেদসহ কয়েকজন যুবক বারে বসে মদ পান করছিলেন। এসময় হঠাৎ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু করে। পরে উভয়পক্ষের আরও কয়েকজন যোগ হয় ঝগড়ায়। এতে প্রথমে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করে তাজওয়ার হক রাদির নেতৃত্বে এক পক্ষ। যেখানে সোলাইমানও ছিল। পরে নিহত রাশেদের লোকজন প্রথম দফায় বারের সামনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে সোলাইমানকে। এরপর তাকে পেটাতে পেটাতে ফিশারীঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই আজ সকালে মৃত্যু হয় সোলাইমানের।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





