বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে বমু খাল। প্রায় ১৮০ ফুট প্রশস্ত এই খালের ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খাল পারাপারে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা কিংবা অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থায় খাল পার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
বমু খালের এক প্রান্তে রয়েছে চিনতাবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন খাল পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘অন্তত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেও এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি। সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
এলাকার জনপ্রতিনিধি মেনচিং মুরুং বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি লামা উপজেলার প্রকৌশলীরা বেশ কয়েকবার জায়গাটি পরিমাপ করে গেছেন। কিন্তু এরপর আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে? দুর্ঘটনা ঘটার পর যেন কর্তৃপক্ষের ঘুম না ভাঙে।’
চিনতাবা পাড়ার কারবারি লাঙি মুরুং বলেন, ‘বমু খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।’
এ বিষয়ে এলজিইডি লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, ‘বমু খালের ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে। আশা করছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীসহ ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বমু খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন





