উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে নিয়ে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে করা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামি হলেন— মেহেদী হাসান পলাশ, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সুলতান আহামদ এবং ইমান হোসাইন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই কক্সবাজার জেলার পুলিশ পরিদর্শক আমির হোসেন তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সরেজমিনে পাওয়া সাক্ষ্য ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে শাহজাহান চৌধুরীকে সামাজিকভাবে হেয় করা, অপমান ও অপদস্থ করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বাদীর সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এতে তার ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫(২) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত তদন্ত প্রতিবেদন ও দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে সঠিক বলে প্রতীয়মান হওয়ায় ওই ধারার অপরাধ আমলে নেন। এরপর তিন আসামির বিরুদ্ধে ডব্লিউএ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার আইনজীবীর দাবি, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসন করে শাহজাহান চৌধুরী শতকোটি টাকা আয় করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়।
এ বিষয়ে শাহজাহান চৌধুরীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইমরান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আইনজীবী ছমি উদ্দিন অভিযোগ করেন, আসামিরা শাহজাহান চৌধুরীর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় ‘ডিজিটাল অগ্রযাত্রা’র ফেসবুক পেজে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/মোস্তফা/এমকেএন





