চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বেশ কয়েকজন যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় একটি স্পিডবোট। তবে কিছুদূর যাওয়ার পর জ্বালানি সংকটে স্পিডবোটটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন সাগর উত্তাল। তাই, জ্বালানিবিহীন নৌযানটি সাগরে প্রচণ্ডভাবে দুলছিল। এই অবস্থায় অন্ধকার নেমে আসে যাত্রীদের চোখে মুখে। অনেকেই বেঁচে ফেরার আশাও অনেকটা ছেড়ে দেন। সাগরে ভাসতে ভাসতে অনেকক্ষণ রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর স্পিডবোটটি একপর্যায়ে গিয়ে থামে সীতাকুণ্ড উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনে। আর তখনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন যাত্রীরা।
গতকাল শনিবার সকালে ঘটা এই ঘটনাটি আজ রোববার জানাজানি হয়।
জানা গেছে, স্পিডবোটটিতে ৮ যাত্রী ছিলেন। আদালতে হাজির হওয়া ও চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন তারা। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে এসে তাঁরা সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে ৩ হাজার ২০০ টাকায় একটি ১০ সিটের স্পিডবোটটি ভাড়া করে রওনা হন। সমুদ্র খুবই উত্তাল থাকায় তীব্র স্রোত আর বড় বড় ঢেউকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল স্পিডবোটটি। কিন্তু কিছুদূর যেতেই হঠাৎ সেটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।
দায়িত্বরতরা অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও সেটি আর সচল করতে পারেনি। জ্বালানি ছাড়া উত্তাল সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া স্পিডবোটটি কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের সাবেক আলোচিত ইজারাদার আবুল কাশেম ওরফে রাজা কাশেমের বলে জানা গেছে।
বেঁচে ফেরা স্পিডবোটের যাত্রী নূর হোসেন (২৮) জানান, সবার জরুরি কাজ থাকায় এমন বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও রওনা দিতে হয়েছিল। তবে কিছুদূর যেতে না যেতেই হঠাৎ স্পিডবোটটি অচল হয়ে পড়ে। চালক ও সহযোগী ইঞ্জিন সারাতে কিছুটা সময় চেয়ে নেন। পরে তারা আমাদের জানান, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তাই কিছুই করার নেই। তাদের এমন কথায় দুশ্চিন্তা আরও ঘনীভূত হয়। মাঝসাগরে স্পিডবোটটি থেমে যাওয়ায় ভয়-আতঙ্কে পড়ে যায় সবাই। বড় বড় ঢেউয়ের কারণে যে কোনো সময় স্পিডবোটটি ডুবে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় ছিলাম সবাই। চোখ বন্ধ করে আল্লাহকে ডাকছিলাম বার বার। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়েছে- এই যাত্রায় হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না আমাদের। কিন্তু অলৌকিকভাবে অনেকক্ষণ পর স্পিডবোটটি ভাসতে ভাসতে তীরে পৌঁছে যায়। এটি এখনও আশ্চর্য মনে হচ্ছে সবার কাছেই।
যাত্রীরা জানান, এ ঘটনার পর এখনও আতঙ্ক কাটেনি তাদের। প্রায়ই মনে পড়ে দুর্বিষহ সেই মুহূর্ত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকায় চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোট চালানোয় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সমুদ্রবন্দরে আবহাওয়া বিভাগ সতর্কসংকেতও জারি করেছিল। তবে সতর্কসংকেত অমান্য করে সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় স্পিডবোটটি। বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার সতর্কতা জারি করলে বিআইডব্লিউটিএ সব ধরনের নৌযানের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। গত শনিবার সেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। অথচ সেটি উপেক্ষা করেই যাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু করে স্পিডবোটটি। অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। তবে এর দায়ভার এড়াতে পারে না স্পিডবোট কর্তৃপক্ষ। স্পিডবোটটির রুট পারমিট ছিল কিনাসহ যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





