চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুসারে সীমানা জরিপ করে এর ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা তৈরি করে আগামী চার মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ জরিপ সম্পন্ন করতে হবে এবং আগামী বছরের ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে আজ রবিবার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
কাপ্তাই লেকে অবৈধ দখলদার দ্বারা দূষণ ও দখল করা হচ্ছে— মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করে মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। সেই আবেদনের শুনানি করে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করতে নতুন করে জরিপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে অনুসারে জেলা প্রশাসক জানান, এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সার্ভে অব বাংলাদেশের (জরিপ অধিদপ্তর) সহযোগিতা প্রয়োজন। এরই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চায়।
শুনানি শেষে আদালত আগামী চার মাসের মধ্যে প্রকৃত ম্যাপ অনুসারে সীমানা জরিপ করে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। ফলে ওই লেক বর্তমানে অবৈধভাবে দখল করে অনেকে অবস্থান করছেন এবং দূষণ করছেন; যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে মিডিয়া রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে অনেক অবৈধ দখলদার তাদের নিজের মালিকানা দাবি করছেন। এ কারণে তাদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। এ কারণে জরিপ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





