জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা এনসিপির

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টার আলোচনা, বাগ্‌বিতণ্ডা ও অবস্থান কর্মসূচির পর অবশেষে মামলা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে মামলাটি করেন এনসিপির নেতারা।

এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদা মিতু উপস্থিত ছিলেন। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ তাদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করেন।

পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সে কারণেই প্রথমে তাদের আটকে দেওয়া হয়।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। দীর্ঘক্ষণ বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পর তারা সেখান থেকে রওয়ানা হন।

এরপর বাহুবলের রশিদপুর এলাকায় আবারও তাদের বহর থামিয়ে দেয় পুলিশ। সেখানেও পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে আলোচনা করেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল কামাইছড়া তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে মামলা করে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top