বাংলাদেশ থেকে ১৬ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি।

তিনি বলেন, একটি সময় দেশে প্রায় সব খাতেই দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমান। তার দাবি, এসব অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংক হিসাব ও সম্পদে বাংলাদেশিদের নামে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ বা নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ না থাকলেও প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, শুধু একটি নয়, এ ধরনের আরও অনেক প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নবীন আইনজীবীদের প্রতি তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সততা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন। সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top