চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিবন্ধনহীন জেলা অটো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
আজ রোববার দুপুরে কয়েকশ অটোরিকশাচালক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিলে রাস্তার দুপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ তিন কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টাখানেক অবরোধের পরে ত্রিশাল থানা পুলিশ চাঁদা বন্ধের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন চালকরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জেলা অটো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কোনো ধরনের রসিদ ছাড়াই চাঁদা তুলতেন নিজেকে পরিবহন শ্রমিক নেতা পরিচয় দেওয়া দুকুল মিয়া। নিজের দুই শীর্ষ সহযোগী রফিক হোসেন আর মদন মিয়ার মাধ্যমে অটোরিকশাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা তোলা হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাসখানেক চাঁদা বন্ধ ছিল। কিন্তু এরপর আবার শুরু হয় ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর চাঁদা প্রথমে ৪০ টাকা ও পরে ৭০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। চালকদের কাছে এককালীন এক হাজার টাকাও চাঁদা দাবি করা হয়। কেউ চাঁদা না দিলে মারধর, গাড়ি আটকে রাখাসহ নানা হয়রানি করা হচ্ছিল।
আজ সকালে ত্রিশাল থেকে মো. ফয়সাল নামে এক চালক অটোরিকশা নিয়ে মেডিকেল গেট এলাকায় এলে তাঁর কাছে ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করলে ফয়সালকে সেখান থেকে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি ত্রিশালে গিয়ে অন্য চালকদের বিষয়টি জানান। সকাল ১০টার দিকে অটোরিকশার চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
মো. রহিম নামে বিক্ষোভকারী এক চালক জানান, চাঁদার টাকা না দিলে আমাদের স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না এবং মারধরও করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।
ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা হয়রানির শিকার হন। এরই প্রতিবাদে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে চাঁদা বন্ধে তাদের আশ্বস্ত করলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
জানা গেছে, কথিত শ্রমিক নেতা দুকুল মিয়া নিজেকে ময়মনসিংহ জেলা অটো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল হক শামীমের নাম ব্যবহার করে দুকুল চাঁদাবাজি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুকুল নিজেকে বিএনপি নেতা ও ময়মনসিংহ সদর আসনের নবনির্বাচিত এমপি ওয়াহাব আকন্দের লোক পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। তাঁর নাম ব্যবহার করেই দুকুল চাঁদা আদায় চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে দুকুল নামে কাউকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত এমপি ওয়াহাব আকন্দ। তিনি সমকালকে বলেন, আমার বা আমার দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ চাঁদাবাজি করে, তাকে আটক করে পুলিশের সোপর্দের আহ্বান জানাই। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এসব ব্যাপারে আমার জিরো টরালেন্স। ময়মনসিংহ শহর থেকে আমি এসব উৎখাত করে ছাড়ব।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





