২৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরে টানা প্রায় দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও কর্মস্থলফেরত মানুষ।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা ও কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে সড়কে পানি জমে যায়। অনেক এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে।

পথচারীরা জানান, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই অনেক সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ফলে অফিসফেরত মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিছু এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচলও ব্যাহত হয়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, রাত ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে পতেঙ্গায়। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার।

এদিকে আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

কাতালগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা পারভীন আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলেকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। হাসপাতাল থেকে বাসায় যেতে পারছি না খাবারের জন্য। সড়কে হাঁটুসমান পানি। একটু বৃষ্টি হলেই বাসার নিচে পানি জমে যায়। এই দুর্দশা থেকে আমরা মুক্তি চাচ্ছি।

বহদ্দারহাটের বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা হেফাজুতুল ইসলাম বলেন, অফিস শেষে বাসায় ফিরছি এমন সময়ে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। কিছুক্ষণ বৃষ্টি হতে না হতেই রাস্তায় হাঁটুসমান পানি। ২০ টাকার রিকশা ভাড়া মুহূর্তেই ৫০ টাকা। বাধ্য হয়ে যেতে হলো, সাথে ভোগান্তিও হলো।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ এলাকায় ধীরে ধীরে পানি নেমে যেতে শুরু করেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রোববার রাত থেকেই জলাবদ্ধতা ঠেকাতে মাঠে ছিলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন। তিনি চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি করে দিয়েছেন। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top