১৯ বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা হত্যা, আইনজীবী হয়ে বিচার পেলেন ভাই-বোন
৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : সালটা ২০০৬। ১৫ অক্টোবর, সন্ধ্যা। নিজ মালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ইফতার মাহফিল শেষে রিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে  কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বড় ভাইকে। পরে বুক ও মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তখন ছোট ভাই দশম শ্রেণিতে, ছোট বোন এইচএসসিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। তারা সেসময় শপথ করেন বড় হয়ে আইনজীবী হবে এবং বড় ভাইয়ের হত্যার ন্যায়বিচার আদায়ে আইনি লড়াই করবে।

সিনেমার গল্পের মতো ১৯ বছর পর সত্যিই তাদের স্বপ্ন পূরণ হলো। ভাই হারানোর শোক বুকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ছোট দুই ভাই-বোন হয়েছেন আইনজীবী। ওই মামলায় ভাইয়ের হয়ে লড়েছেন তারা। রায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বলছিলাম ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম এবং অ্যাডভোকেট পাইরিন আক্তারের কথা। তারা দুজনই বর্তমানে উচ্চ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদুল হাবিব হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিনের আদালত এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জাহেদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবু এরশাদ ও রুস্তম আলী। রায়ের সময় জাহেদুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য তিনজন পলাতক রয়েছেন।

নিহত এরশাদুল হাবিব চট্টগ্রামের ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আশরাফ হোসেন চৌধুরী জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন এবং অপর চারজনকে খালাস দিয়েছেন। পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ এলাকায় রমজান মাসে নিজ মালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ইফতার মাহফিল শেষে রিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে এরশাদুল হাবিবের পথরোধ করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় তাকে। পরে বুক ও মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম বলেন, খালাস পাওয়া চার আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে আশা করি।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top