আনোয়ারা প্রতিনিধি : আনোয়ারার টানেল সড়ক মোড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একের পর এক আহত মানুষ যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছটফট করছিলেন, তখন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও চালক না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন আহতের স্বজনরা। সংকট এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে, গুরুতর আহত নারী-পুরুষকে একই অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠাতে হয়।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আহতদের স্থানান্তর করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মানুষের জীবন নিয়ে চরম অবহেলা চলছে, অথচ স্বাস্থ্যসেবায় নেই কার্যকর তদারকি বা জরুরি প্রস্তুতি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একাধিক রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তখনই দেখা দেয় অ্যাম্বুলেন্স সংকট। হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। পরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হলেও সময়ক্ষেপণের কারণে আহতদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে একজন নারী ও একজন পুরুষ গুরুতর আহতকে একই অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, কেউ জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। অথচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না, কারণ চালক নেই। এটা চরম দায়িত্বহীনতা। মানুষের জীবন কি এতটাই মূল্যহীন?”
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টানেল সড়ক মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে যাত্রী ওঠানামার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে সিএনজির চালক, যাত্রী এবং দোকানদারসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। গুরুতর আহতদের অনেকের হাত, পা ও কোমর ভেঙে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন বলেন, “একসঙ্গে ১৪ থেকে ১৫ জন রোগীকে চমেক হাসপাতালে রেফার করতে হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স সংকট তৈরি হয়। পরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স এবং একজন চালক রয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় টানা দায়িত্ব পালন করায় ক্লান্ত হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিলেন।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সরকারি হাসপাতালে মাত্র একজন চালকের ওপর ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা নির্ভরশীল থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সময় মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব কে নেবে? তাদের দাবি, এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, বিকল্প চালক এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো আহত মানুষ চিকিৎসাসেবার অভাবে প্রাণ না হারান।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এসএ





