চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে দাবি করে এসব বন্ধ না হলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনটির এক জরুরি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কপ নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন ইফতেখার কামাল খান। এতে উপস্থিত ছিলেন কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু।

সভায় নেতারা বলেন, বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন। উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
নেতারা জানান, শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে– আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ জন শ্রমিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ দুদকে আবেদন করেছে।
স্কপের দাবি, এ পদক্ষেপ নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশেই নেওয়া হয়েছে।
স্কপ নেতারা এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক ও গর্হিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কিংবা সম্পদ তদন্তের হুমকিতে শ্রমিকরা ভীত নন। বরং এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল) ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌ উপদেষ্টা, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বন্দর চেয়ারম্যানের সম্পদের হিসাব নেওয়াই বেশি জরুরি।
তারা আরও বলেন, এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমনে যে কোনো হয়রানিমূলক পদক্ষেপ প্রতিহত করতে স্কপ প্রস্তুত রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান ‘আগুন নিয়ে খেলার’ শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।
সভা থেকে আগামীকালের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা এবং শ্রমিকদের বদলি ও অন্যান্য হয়রানিমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে জানা গেছে, শ্রমিকদের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ১৫ জন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা ওই চিঠিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন উপদেষ্টার দপ্তর, দুদক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের কাছেও।
চিঠিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের মধ্যে তাদের প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়।
তালিকায় আরও রয়েছেন মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





