নিজস্ব প্রতিবেদক : হঠাৎ করেই দেশের শীর্ষ চারটি বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে আজ রবিবার দিনভর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যায়ে হামলা, পাল্টা হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙ্চুর, অবরোধ ও নানা সহিংস ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে আজ রবিবার দিনব্যাপী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাটহাজারী জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। এ সময় স্থানীয়দের হামলায় সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ অন্তত তিন শতাধিক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়ে চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এ ধারা বলবৎ থাকবে। একইসঙ্গে আগামীকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) চবির পূর্ব নির্ধারিত সকল পরীক্ষা স্থগিত করেছে চবি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ভাড়া বাসার দারোয়ান এক ছাত্রীকে মারধর করেন—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রবিবার রাত পৌনে ৮ টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের আশেপাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি পূরণ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ দুই শতাধিক শিক্ষককে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বেলা ১টা থেকে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছিলেন ওই শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (রবিবার) রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপু। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে তারা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের তালা খুলে অবরুদ্ধ শিক্ষকদের বের করে দেয়। হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি আগামীকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাকসুর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আজ মনোয়নয়ন ফরম বিতরণের শেষ দিন থাকলেও ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের বাধায় শেষ পর্যন্ত ফরম বিতরণ করতে পারেননি নির্বাচন কমিশন।
এ সময় ‘রাকসু ফি দিয়েছি, ভোটার হতে চেয়েছি’, ‘লড়তে হলে লড়ব, ভোটাধিকার নিয়ে যাব’, ‘প্রথম বর্ষের ভোটাধিকার, দিতে হবে দিতে হব’- প্রভৃতি স্লোগান দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
আজ দিনভর শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে অস্থিরতা বিরাজ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবকাঠামো উন্নয়নসহ তিন দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দাবি মেনে নিতে সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা অনশনে বসারও প্রস্তুতির কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক রাকিব আহমেদ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সাক্ষর বক্তব্য দেন।
প্রায় এক মাস ধরে অবকাঠামো উন্নয়নসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ