আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে কথা বলতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ওই আলাপের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, উত্তেজনার মধ্যেও তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে চেয়েছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে তেল কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করতে এসেছিলেন। বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি’। ট্রাম্প বলেন, তিনি সেদিন ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হাউস রিপাবলিকান পার্টির (জিওপি) সদস্যদের রিট্রিটে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি নরেন্দ্র মোদি প্রসঙ্গে কথা বলেন। ওই মুহূর্তের একটি ভিডিওতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছে। এগুলো কেনার জন্য নয়াদিল্লিকে পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারত মোট ২৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারই অর্ডার করেছিল। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
নয়াদিল্লির সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত টানাপোড়েন ও রাশিয়ার কাছে থেকে তেল কেনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ওনার (নরেন্দ্র মোদি) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে তিনি খুব একটা খুশি নন, কারণ এখন তারা অনেক বেশি ট্যারিফ দিচ্ছে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত বর্তমানে রাশিয়ার কাছে থেকে তেল কেনা অনেকটাই কমিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছে থেকে তেল কেনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ২০২২ সাল থেকে ছাড়মূল্যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়ায় ভারত। তারা মস্কোর জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রই ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ আনুমানিক ২১২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ







