চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সুজান জিন্ডেল এবং সহকারী পর্যবেক্ষক মো. মাসুক হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মেয়র বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ২০০১ সালের পর দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি বলে জনগণ প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের নতুন ধাপে পৌঁছাবে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অর্থনৈতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেয়র জানান, বর্তমানে তিনিই দেশের একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচিত মেয়র। ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আদালতের রায়ের পর তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন মেয়রের সঙ্গে ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় পুরো নগর পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একই দিনে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হচ্ছে, যা কার্যকর সেবাদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় আইনি কাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে তারা সংসদীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে সুপারিশ থাকবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





