চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন লাখো মুসল্লি।
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হয় ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।
আরাফাতে অবস্থানকালে হাজিরা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া-মোনাজাতে সময় কাটান। দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা প্রদান করেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার পাশাপাশি বাংলাতেও খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে রাতযাপন ও মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন তারা।
১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা। এরপর পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানরাও পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিদের মধ্যে শুভেচ্ছা ও কোলাকুলির দৃশ্য দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে।
ত্যাগের শিক্ষা ও মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে মুসলমানরা স্মরণ করছেন হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণেই ইসলামি শরিয়তে কোরবানির বিধান চালু হয়েছে। প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা এই সুন্নত পালন করে থাকেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ বাসসহ আধুনিক পরিবহন সুবিধাও চালু রাখা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





