চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছায়, জনগণের ভালোবাসায় যদি সরকার গঠন করতে পারি তবে প্রথম দিন ফজরের নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করব ইনশাআল্লাহ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শাসকশ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদেরকে দেশের মালিক মনে করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদপদবী, নীতি প্রতিষ্ঠান সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হিসেবে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতারিত করে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প ব্যক্তিগত ও দলীয় লণ্ঠনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে জামায়াতে ইসলামী থেকে যারা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন তারা কেউ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি।’
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে একটি নতুন স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক মহা সুযোগ হিসেবে এসেছে। যেসব সমস্যা আমরা বিগত দিনে সমাধান করতে পারিনি, যে লুটেরা গোষ্ঠীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। সেসব সমস্যার সমাধান এবং লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হচ্ছে আগামী নির্বাচন। তাই জনগণকে ঠিক করতে হবে আমরা আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের তরুণদের জন্য, আমাদের নারীদের জন্য, বয়স্ক মানুষের জন্য, প্রান্তিক মানুষের জন্য, শ্রমিকের জন্য, উদ্যোক্তাদের জন্য।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। করপোরেট জগত থেকে রাজনীতি—সবখানে তাদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছি যে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য পাঁচটি বিষয়ে হ্যাঁ এবং পাঁচটি বিষয়ে না বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা হ্যাঁ বলতে বলেছি। কারণ এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত, নৈতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব, চাঁদাবাজি-কে স্পষ্ট করে না বলতে হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘‘আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হচ্ছে আমানত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়। সর্বাবস্থায় আমরা স্মরণে রাখব ‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। আমরা হযরত ওমরের সেই বিখ্যাত উক্তি ও দায়িত্বশীলতা মনে রাখব যে, ‘ফোরাতের তীরে একটি কুকুর না খেয়ে মড়ে গেলেও আমি ওমর দায়ী থাকব’। আল্লাহ’র নির্দেশ অনুসারে আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকব, ইনশাআল্লাহ।’’
তিনি বলেন, ‘আশা করি আপনারা আমাদের অঙ্গীকার ও স্বপ্নকে বিশ্বাস করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রতি সমর্থন দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় এবং যেসব অঞ্চলে ১১ দলীয় প্রার্থী আছে সেসব এলাকায় ১১ দলীয় প্রতীকে ভোট দিবেন, এ আকুল আবেদন আপনাদের প্রতি রাখলাম। আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ আমাদেরকে দিয়েছে, আসুন সেটা কাজে লাগাই। বিগত দিনের রাজনীতি পরিহার করি। একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করি যেখানে সবাই মান-ইজ্জত-মর্যাদা নিয়ে বাস করবে।’
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





