সাতকানিয়ায় বিএনপি প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কের গাড়িতে হামলা!
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক)

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের গাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ওই সমন্বয়কের নাম এম এ হাশেম রাজু। তিনি চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের বাজালিয়া ইউনিয়নের বাজালিয়া বাস স্টেশন সংলগ্ন ভাঙা ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম এ হাশেম রাজু। অনুষ্ঠান শেষে তিনিসহ বেশ কয়েকজন সাতকানিয়ার বাজালিয়া বাস স্টেশন সংলগ্ন ভাঙা ব্রিজের কাছাকাছি গেলে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। একই সময় তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পায় বলেও তারা দাবি করেন।

তবে এলাকার বাসিন্দারা জানান, ‘এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের মনে হয় না। আর যদি ঘটেও থাকে আমরা আশপাশের আমরা টের পেতাম। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে হামলার মূল রহস্য জানা যেতে পারে বলে দাবি উক্ত এলাকাবাসীর।

তবে এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমে বলেন, ‘এম এ হাশেম রাজুকে বহনকারী গাড়িটি বাজালিয়া ভাঙা ব্রিজ পার হলে ওই গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও গাড়ির পেছন থেকে গুলি করা হয়। স্থানীয় এলডিপি ও জামায়াতের ৫০-৬০ জন রামদা ও কিরিচ নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। এ সময় তারা আমার নাম ধরে আমি গাড়িতে আছি কিনা চিৎকার করতে থাকে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করব।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, ‘এ ঘটনাটি নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত ও সাজানো ঘটনা। এ রকম বিষয় নির্বাচনী মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশকে ঘোলাটে করার অপকৌশল ও সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র’।

উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘এ ঘটনায় জামায়াতের দূরতম সম্পর্ক নাই। অতীতেও জামায়াত এ রকম ঘটনায় জড়িত ছিল না ভবিষ্যতেও থাকবে না। এগুলো কেবলই অপপ্রচার’।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবুও ঘটনাটির অধিকতর তদন্তের জন্য আমরা কাজ করছি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রথমে তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। পরে জোটগত কারণে জামায়াত তাদের প্রার্থী সরিয়ে নিলে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক মনোনয়ন পান। তিনি দলটির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পুত্র।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top