চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ডিআইজি বলেন, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত অগ্নিসংযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—মনির হোসেন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মো. পারভেজ।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে চারটি উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিন তেলের দুটি কন্টেইনার ও একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তেলমাখা একটি লুঙ্গি, একটি পুরোনো কালো শার্ট, একটি মোবাইল ফোন এবং ঘটনাস্থলে যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ আরও বলেন, অগ্নিসংযোগ, উসকানি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর ২০২৫ সালে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু ঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যেখানে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য লেখা ছিল। ব্যানারগুলোতে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল।
তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রথমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ চক্রটির সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে জানান ডিআইজি।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন
আরও খবর পড়ুন – চাটগাঁ নিউজ হোমপেজ
![]()
লাইভ আপডেটেড ভিডিও নিউজ দেখতে চোখ রাখুন সিপ্লাস টিভির ইউটিউব চ্যানেলে






