চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: সন্দ্বীপের বাউরিয়া উপকূল এলাকায় তীব্র ভাঙনের ফলে সাগরের তলদেশে স্থাপিত বিদ্যুতের সাবমেরিন ক্যাবলের সুরক্ষাবেষ্টনী উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের ভাঙনে ক্যাবলের ওপরের প্রায় ২৫ ফুট মাটি সরে গেছে। ফলে পাইপের ভেতরে থাকা সাবমেরিন ক্যাবল দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার উপকূলীয় এলাকা সাগরে বিলীন হয়েছে। উন্মুক্ত অবস্থায় থাকায় ক্যাবল বহনকারী পাইপে ট্রলার বা নৌযানের ধাক্কা লাগার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
২০১৮ সালে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর উপকূল থেকে সন্দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার সাগরপথে ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হয়। সমুদ্রের ১৮ থেকে ৩০ ফুট গভীরে স্থাপিত এসব ক্যাবলের প্রতিটিতে তিনটি কোর ও একটি অপটিক্যাল ফাইবার রয়েছে। একটি লাইনে সমস্যা দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে অন্য ক্যাবল ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুটি লাইনের মাধ্যমে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।
বর্তমানে উন্মুক্ত হয়ে পড়া ক্যাবলের ওপর দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা করতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।
সন্দ্বীপ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী জানান, ক্যাবল সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উন্মুক্ত ক্যাবলের ওপর হাঁটাহাঁটি বা দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রায় চার লাখ মানুষের আবাসস্থল সন্দ্বীপে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছানোর পর গত সাত বছরে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। একসময় যেখানে জেনারেটরের মাধ্যমে পিক আওয়ারে মাত্র ১ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো, সেখানে বর্তমানে দ্বীপটিতে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





