চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ক্যাম্পাসে শাটডাউন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এছাড়া উপাচার্যকে পুনর্বহাল করে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চুয়েটের শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ দাবি তুলে ধরেন।
তারা বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম, মৌমিতা দত্ত প্রিয়া ও রাতুল হাসান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন অফিস, রিসার্চ হাব, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। এসব উদ্যোগ পর্যাপ্ত সময় পেলে চুয়েটের শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ ছিল।
তারা বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ চুয়েট পরিবারের উদ্বেগ, দেশ-বিদেশের অ্যালামনাইদের সংহতি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের সমর্থন এবং অধ্যাপক সায়েমের নেওয়া শিক্ষা ও গবেষণামুখী উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। তাদের দাবি একটাই এবং অপরিবর্তিত— অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
৫৬’তেই কেন প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবির আগে রোববার বেলা দুইটায় শহীদ মিনারে ‘৫৬তেই কেন’ প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘৫৬?’ লিখে অধ্যাপক সায়েমকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, সে প্রশ্ন তোলেন তারা।
পরে শহীদ মিনার থেকে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে শহীদ মিনারে ফিরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
পরে সেখানে একটি পথনাট্য অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আজ রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
শিক্ষক প্রতিনিধি সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নেই। একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে চাপে আছি, শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না।’
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েম স্যারকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






