শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক, শালিসি বিচারে তীব্র সমালোচনা

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে এই গুরুতর অপরাধের বিচার প্রচলিত আইনে না করে স্থানীয়ভাবে ‘শালিসি বৈঠক’ বসিয়ে চড়-থাপ্পড় ও লাঠিপেটা করে রফাদফা করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. মারুফ (২৫)। তিনি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ইমামনগর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় ‘বায়তুল করিম মহিলা মাদ্রাসা’র সহকারী শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকতার আড়ালে মারুফ দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার বিভিন্ন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী মুখ না খুললেও সম্প্রতি তার লালসার শিকার হয় ৭ বছরের এক শিশু। নির্যাতনে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঘটনাটি জানাজানি হয়।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে স্থানীয় সমাজপতিরা একটি শালিসি বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে অভিযুক্ত মারুফ সবার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। কিন্তু উপস্থিত প্রভাবশালীরা তাকে প্রচলিত আইনের হাতে সোপর্দ না করে কেবল চড়-থাপ্পড়, গাছের ডাল দিয়ে মারধর এবং মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বিচার কাজ শেষ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে মীমাংসাযোগ্য নয়। তারা মনে করেন, এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং অপরাধীকে রক্ষার অপচেষ্টা। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হোসেন খান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। ধর্ষণের মতো অপরাধ শালিসের মাধ্যমে বিচার করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/ফরিদ/এমকেএন

Scroll to Top