চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পুত্রবধূ আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুনার গাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় শাহেদা বেগম (৫৩) গুরুতর আহত হন। তার মাথায় একাধিক কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়েছে। পরে তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মঈন উদ্দিন ফয়সাল গত ১৯ জুন আকলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আকলিমা তার শাশুড়ি শাহেদা বেগমের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে খাবার শেষে তারা একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঘুমন্ত শাহেদা বেগমের ওপর আকলিমা ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহেদা বেগমের মেয়ে ফারজানা আকতার পপি বাদী হয়ে তার ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আকলিমা ছুরি দিয়ে শাহেদা বেগমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তার মাথার বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য শাহেদা বেগম পুত্রবধূর হাতে কামড় দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
শাহেদা বেগমের মেয়ে ফারজানা আকতার পপি ও পরিবারের কয়েকজন স্বজনের দাবি, পরকীয়ার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ থেকে পুত্রবধূ এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে অভিযুক্ত আকলিমার বাবা জানান, তার মেয়ের সঙ্গে কারও পরকীয়া সম্পর্কও নেই।
ফটিকছড়ি থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সুমন দাস বলেন, এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





