চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : জুলাই আন্দোলনের শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যা মামলার আসামি লোহাগাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ প্রকাশ ডেম্পার খোরশেদকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় লোহাগাড়া থানা পুলিশ।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহবুবুল হাছান (৪১) নগরের পাঁচলাইশ থানায় শান্ত হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এতে ৯৯ জন আসামির নাম উল্লেখ করে আরও ১২শ’ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
ওই হত্যা মামলায় আটক লোহাগাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ ওরফে ডেম্পার খোরশেদকে ২৩ নং আসামি করা হয়।
মামলা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ জুনের পর সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা আরোপ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করে সারাদেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন নিয়ে ১নং আসামি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে ‘রাজাকার’ সম্বোধন করলে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেয়। ১৫ জুলাই ২নং আসামি ছাত্রদের দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট মর্মে উস্কানী দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৩ থেকে ৯৯ নং আসামিগণ নিরীহ ছাত্রদের নিধনের উস্কানীমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ও সারাদেশের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ ও পুলিশ বাহিনীকে উস্কে দেয়ায় তারা আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৬ জুলাই সারাদেশে ছাত্র নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওইদিন বিকালে ওমর গণি এম ই এস কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র-শিবিরের সাথী ফয়সাল আহমেদ শান্ত তার বন্ধু সাজ্জাদ সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের যৌক্তিক দাবির সমর্থনে চট্টগ্রামের মুরাদপুর ২নং গেইটে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। এ সময় আসামিদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে শান্ত গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।