শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব দেখতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘের যেকোনো শান্তি ও মানবতামূলক উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, ন্যায্যতা ও সম্মানের ভিত্তিতে একটি সমঝোতাপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ।

ভাষণের শুরুতে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের জুনে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বায়নের বর্তমান সময়ে একটি দেশের সংকটের প্রভাব আর কেবল সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা বাড়ছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে গভীর মানবিক সংকট।

তিনি বলেন, সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বিরোধ বা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সামরিক শক্তির মাধ্যমে নয়; আলোচনা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পথেই এর সমাধান খুঁজতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও জনকল্যাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ সামরিক খাতে স্থানান্তরের প্রবণতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে তার অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্দশা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা দেখতে চায়, যেখানে অস্ত্র ও সহিংসতার পরিবর্তে যুক্তি, সংলাপ, কূটনীতি, শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধই পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হবে।

ভাষণের শেষাংশে বিশ্বশান্তি, মানবতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্যসূত্র: বাসস

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top