চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়ায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানকার সড়কের অসঙ্গতি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।
বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাস্থলে যান উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এ সময় তার সাথে ছিলেন।
পরিদর্শনের পর ফারুক-ই-আজম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাথে এ বিষয়ে আলাপ করব। সড়কে কী অসঙ্গতি আছে তা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে বলেছি। তারা এখানে আছেন। উনারা দেখে দ্রুততম সময়ে করণীয় নির্ধারণ করে জানাবেন।’
‘আর এখানে যে বেপরোয়া গাড়ি চলছে, এগুলোর স্থান চিহ্নিত করে বিভিন্ন জায়গায় যথাযথ প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা দরকার। সেটার জন্য সড়ক কর্তৃপক্ষ যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আমি বলে যাচ্ছি।’
১০ জন নিহতের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক, দুঃখজনক, বেদনাদায়ক’ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ঘটনা আমাদের জাতিকে বিমর্ষ করেছে। আমরা স্বজনদের সঙ্গে সমব্যথী। দীর্ঘসময় ধরে বারবার এখানে দুর্ঘটনা হচ্ছে, শুধু এখানে নয়, এই সড়কের অন্য অংশেও। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের কক্সবাজার যেতে হলে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগছে। আর ঢাকার লোকের ফ্লাইটে করে আধা ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌঁছাছে, এটা একটা ডিসক্রিমিনেশনও বটে। এগুলোরও অবসান হওয়া উচিত।’
দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেককে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং সরকারিভাবে আরও ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসা বাবদ ১৫ হাজার টাকা করে ইতোমধ্যে দিয়েছি। বিআরটিএ এর পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য যদি আরও প্রয়োজন হয় সরকার সেটাও দেবে।’
এর আগে, বুধবার সকালে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস- মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোট ১০ জন নিহত হন। এরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহর অভিমুখী রিল্যাক্স পরিবহনের বাস ও কক্সবাজার অভিমুখী মাইক্রোবাসের সঙ্গে এ সংঘর্ষ হয়।
এর আগে, গত সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়া উপজেলায় মহাসড়কের একইস্থানে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন/এসএ