চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, আইজিপি ও র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রিটে আরো বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এ নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বক্তব্য প্রদান করেছেন যে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
রিটে আরও বলা হয়, সরকার কিছু এমপি পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের আপামর ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এই অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ ‘জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






