ক্রীড়া ডেস্ক: শুরুটা ছিল অগোছালো, কিন্তু শেষটা নিখুঁত। বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরে এসে পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিল বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে যতটা আলোচনায় ছিলেন, মাঠে নেমে তার চেয়েও বেশি আলো ছড়ালেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভান। তার জোড়া গোলেই পাকিস্তানকে সহজে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ মালদ্বীপের মাঠে শুরুর ৪৫ মিনিট দেখে বোঝার উপায় ছিল না ম্যাচের শেষটা এমন একতরফা হবে। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেও বিরতির পর নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরে এসে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা রোনান সুলিভান। শেষ অব্দি তার দুই গোলেই জিতল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল অগোছালো। আক্রমণে উঠলেও শেষ পাস কিংবা ফিনিশিং, কোনো কিছুতেই ঠিকমতো ধার দেখা যাচ্ছিল না। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে বারবার সুযোগ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। একাধিকবার প্রতিপক্ষের গোলমুখে পৌঁছেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় দলটি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় হতাশার গোলশূন্য সমতায়।
তবে বিরতির পর যেন ভিন্ন এক দল হিসেবে মাঠে নামে বাংলাদেশ। গতি বাড়ে, আক্রমণে আসে ধার, আর সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটে। দূরপাল্লার এক নিখুঁত ফ্রি-কিকে পাকিস্তানের জাল কাঁপিয়ে দেন রোনান সুলিভান। গোলটি শুধু লিডই এনে দেয়নি, ম্যাচের মোড়ও ঘুরিয়ে দেয়।
এই গোলের পর পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়, আর বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৬৭তম মিনিটে আবারও রোনানের নামই উঠে আসে স্কোরশিটে। সতীর্থের ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে স্পষ্ট হয়ে ওঠে কেন তাকে ঘিরে এত আগ্রহ ছিল ম্যাচের আগে।
পাকিস্তান মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল সজাগ। একবার বল জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, যা সেমিফাইনালের পথে বড় পদক্ষেপ। সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা-ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ। আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা রোনান সুলিভানদের।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





