নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে সূর্য ওঠার আগেই ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা—এমন প্রত্যাশাই এখন সর্বত্র।
এই নির্বাচন শুধু দেশের মধ্যেই নয়, দৃশ্যমানভাবে উপভোগ করবেন দেশের ১৭ কোটি মানুষ এবং বিদেশে অবস্থানরত এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন।
অর্থাৎ, ব্যালট বিপ্লবে প্রায় ৫০ শতাংশ শক্তিই থাকছে নারীদের হাতে। এই বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের মন জয় করতে পারলেই বিজয়ের পাল্লা ভারী হবে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজান।
আর একদিন পর চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনসহ সারা দেশের ৩০০টি আসনে শুরু হবে ভোট উৎসব। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি হবে বলে মনে করেন তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউথ ভয়েস অব বাংলাদেশের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি ও খেলাফত মজলিস। পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক জরিপে অনেক আগেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন—এমন আভাস মিললেও ভোটের মাঠে ব্যালট বিপ্লব নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে ভয় ও আশঙ্কা কাজ করছে।
প্রায় প্রতিটি আসনেই প্রার্থীরা জয় নিয়ে আশাবাদী হলেও শেষ হাসি হাসবেন কেবল একজন। কোন আসনে কে জিতবেন—এ নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ।
গণভোটে সরকারের আগ্রহ থাকলেও জনগণের মধ্যে তেমন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি। ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট নিয়ে আগ্রহ কম হলেও নিজ নিজ দলের প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের আগ্রহের শেষ নেই। নিজ দলের প্রার্থীকে জয়ী করতে ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন কর্মী-সমর্থকরা।
এখন প্রচার কার্যক্রম বন্ধ, শুরু হয়েছে অপেক্ষা ও টেনশন। প্রার্থী থেকে শুরু করে সমর্থক ও ভোটারদের বুক ধরফর করছে— প্রিয় প্রার্থী জিতবে তো?
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কেন্দ্র দখল ও রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কাও অনেকের মনে ভর করেছে। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন এখনো এ দেশে অনেকের কাছে রূপকথার গল্প।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতা ও মুনাফিকির প্রবণতা প্রতিবারের মতো এবারও আলোচনায়। এক দল আরেক দলকে দোষারোপ করছে। সব দলই কেন্দ্র পাহারায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—নাগরিকের ভোটে এত অবিশ্বাস কেন রাজনীতিবিদদের?
বিশ্বাসের ভোটে অবিশ্বাসের রাজনীতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। সহিংসতামুক্ত, সৃজনশীল রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান সম্ভব নয়—এমন মত বিশ্লেষকদের।
কারও মতে বর্তমান রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র হুমকির মুখে, আবার কেউ দেখছেন নতুন দিনের নতুন রাজনীতির স্বপ্ন।
ভোট একটি নাগরিক অধিকার ও আমানত। বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শান্তি চায় এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি থেকে মুক্তি প্রত্যাশা করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সকল নাগরিকের জন্য একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হোক—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
লেখক: সমাজচিন্তক ও কলামিস্ট
সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি





