রাঙামাটিতে এক ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মসিং চাকমাকে (৩৯) গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় তার নিজ বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তার ২ বোন ভাগ্যশোভা চাকমা (২৫) ও কৃপা সোনা চাকমা (৩৫) আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শওকত আকবর খান। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের শ্যালক বলভদ্র চাকমা (৫৫) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন ধর্মসিং চাকমা। এসময় একটি সশস্ত্র দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় ধর্মসিং চাকমা পালাতে চাইলে অস্ত্রধারীরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ধর্মসিং। গুলির ঘটনায় ধর্মসিং এর দুইবোন গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানিয়েছে ইউপিডিএফ।

মামলার বিষয়টি করেছেন রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তারা এর প্রতিবাদ হিসেবে তাৎক্ষণিক রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকে।

অন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের  অভিযোগ অস্বীকার করে পিসিজেএসএস। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ‘প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের একজন নিহত হয়েছে বলে খবরটি আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি। তবে এর সাথে জনসংহতি সমিতির জড়িত বা দায়ী থাকার প্রশ্ন আসে না। কেন না জনসংহতি সমিতি যুদ্ধ করছে না।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ি থেকে ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রী অপহরণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে যান গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা ধর্মসিং চাকমা। সে বার পালিয়ে গেলেও ৮ বছর পর গুলিতে নিহত হলেন তিনি।

চাটগাঁ নিউজ/আলমগীর/জেএইচ

Scroll to Top