চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: রমজান শুরু হতেই চট্টগ্রাম নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে লেবুর দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
নগরের বিভিন্ন বাজার ও অলিগলির ভ্রাম্যমাণ দোকান ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের লেবুর হালি এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝারি ও বড় আকারের লেবুর দাম উঠেছে ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। দরদাম করে অনেকেই ১৫০-১৬০ টাকায় কিনছেন।
দুই সপ্তাহ আগেও যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বর্তমানে কিছু জায়গায় ছোট লেবু ৬০ টাকা হালিতে মিললেও অধিকাংশ বাজারে দাম আরও বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার ও কাজীর দেউড়ি এলাকায় প্রতি পিস লেবু ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দর-কষাকষির পর এক ক্রেতা দুটি লেবু কিনেছেন ৯০ টাকায়।
বাজারে সরবরাহ কম, মান নিয়েও অভিযোগ
অনেক বাজারে লেবুর সরবরাহ কম দেখা গেছে। কোথাও কোথাও লেবু নেই বললেই চলে। যে লেবু পাওয়া যাচ্ছে, তার অনেকগুলোই অপরিপক্ব—রসে কম ও স্বাদে তেমন ভালো নয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
ক্রেতাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র বাজারে প্রভাব ফেলছে। কিছুদিন আগেও বাজারে লেবুর প্রাচুর্য থাকলেও হঠাৎ করেই সরবরাহ কমে গেছে।
বিক্রেতাদের দাবি—পাইকারিতে দাম বেশি
চকবাজারের এক লেবু বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারেই এখন বেশি দামে লেবু কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও যে দামে এক ডজন লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন সেই দামে এক হালি লেবুও পাওয়া কঠিন।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, রমজানে বেশি দামের আশায় অনেক চাষি এখনই লেবু বাজারে ছাড়ছেন না। একইভাবে কিছু পাইকারি ব্যবসায়ীও মজুত করে রাখতে পারেন, কারণ লেবু কয়েকদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।
ইফতারকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি
রমজানে ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ লেবুর শরবত। ফলে রোজা শুরুর আগেই চাহিদা বেড়ে যায়। ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষের চাহিদা থাকায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজন ক্রেতা বলেন, ১০০ টাকা বলেও এক হালি লেবু পাইনি। হঠাৎ করেই দাম বেড়ে গেছে। ইফতারে প্রয়োজন হলেও কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবুর দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





