‘যেটা জাতীয় নির্বাচনে পারি নাই, সেটা স্থানীয় নির্বাচনে করে দেখাতে চাই’

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাধারণ মানুষ ১১ দলকে যে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছিল, আমরা সেই ভোট ধরে রাখতে পারি নাই। সেই ভোট যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে ধরে রাখতে পারতাম নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হতো। যেটা জাতীয় নির্বাচনে আমরা পারি নাই, সেটা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা করে দেখাতে চাই।

সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর অভিজাত একটি কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসন জিতে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেছে। এটা সহজ কাজ ছিল না। রাজপথে গণঅভুত্থ্যান থেকে জাতীয় সংসদে পৌঁছেছে। পৃথিবীর অনেক দেশের সাম্প্রতিক সময়ের গণঅভুত্থ্যান যদি আপনারা দেখেন। যেখানে ছাত্র তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে। বেশিরভাগ দেশেই পুরনো বন্দোবস্ত, বিদ্যমান স্টাব্লিসমেন্ট নতুন নেতৃত্বকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াইতে দেয় নাই। একই ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছিল। ৫ অগাস্টের পর থেকে এই তারুণ্যের শক্তিকে দমন করার জন্য নানান শক্তি-অপশক্তি একসঙ্গে কাজ করেছে। এই নির্বাচনেও সর্বাত্মকভাবে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণের সহযোগিতায় ১১ দলের সমর্থনে এনসিপি সবাইকে অবাক করে দিয়ে ছয়টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেছে।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিচার-সংস্কার-দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই তা শেষ হয় নাই। এই লড়াই আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে। জুলাই সনদ ও জনগণের যে গণরায়, যার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, যার ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়েছে সেই গণভোটের রায়কে বাতিল করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতকে আবারও দলীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতকে যদি রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে নিজেদের দলীয় এজেন্ডার কারণে ব্যবহার করা হয়, চেষ্টা করা হয় তার পরিণতি খুবই করুণ হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিন্তু তার পতন শুরু হয়েছিল।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে এনসিপির সদস্য সচিব ও এমপি আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের হাইকোর্টে দুইটি রিট করা হয়েছে। এই দুইটি রিটের মধ্যে দিয়ে জুলাই সনদ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট, গণভোটের ফলাফল এবং সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকে আজকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এটা কোনো আইনের প্রশ্ন নয়। এটা প্রকৃত অর্থেই একটা পলিটিক্যাল কোশ্চেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রশ্ন সমাধানের দিকে যায় না। কিন্তু আমরা খেয়াল করে দেখছি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে একটা জুডিশিয়াল স্টেটে পরিণত করার চক্রান্তের জায়গা থেকে পলিটিক্যাল কোশ্চেনকে কোর্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘রমজান–পরবর্তী বাংলাদেশকে সামনে রেখে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা, প্রতিটি ইউনিয়ন ও প্রতিটি ওয়ার্ডে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্ত ও বিস্তৃত করা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডসহ সর্বত্র আমাদের কমিটিগুলো কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা আর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী চরিত্রের কোনো নতুন রূপান্তর দেখতে চাই না। সে জন্য এই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে এবং সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।’

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমাদের লড়াই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। আপনি বিএনপি করতে পারেন, জামায়াত করতে পারেন, কিংবা এনসিপি করতে পারেন। কিন্তু, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কোনো দলীয় পরিচয় নেই। যারা এসব অপরাধে জড়িত, তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের ছয় জন সংসদ সদস্য সংসদে গেছেন জনগণের সমর্থনে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা দুর্নীতির মাধ্যমে নয়। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের ভরসা রাখতে হবে জনগণের ওপর, কোনো সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর নয়।’

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top