ময়লা অপসারণে গাফিলতি, ক্ষেপলেন মেয়র

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে—কোথাও তিন-চার দিন পরেও ময়লা তোলা হচ্ছে না। এই ধরনের অবহেলা আমি বরদাস্ত করবো না। সুপারভাইজাররা দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সভায় মেয়র এ হুঁশিয়ারি দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মচারী নিয়োজিত আছে। তাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে বাসা বাসা গিয়ে ময়লা নেওয়া। কোনো এজেন্ট বা ভেন্ডার কাজ না করলেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বসে থাকবে না—ডোর টু ডোর গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করতেই হবে।’

মেয়র আরও বলেন, আগের মতো প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোথাও ময়লা না তুললে সঙ্গে সঙ্গে সুপারভাইজারদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন করতে হবে। পুরোনো ডাস্টবিন অপসারণ করা যাবে না, আগে যেভাবে ছিল সেভাবেই রিপ্লেসমেন্ট দিতে হবে।

সভায় বর্জ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত গাড়ি চালনা নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। ড্রাইভারের বদলে হেলপার গাড়ি চালাতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের চাকরি যাবে।’

মশক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘শুধু ওষুধ ছিটালেই হবে না; আগে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলে তবেই কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।’

সভায় মেয়র বলেন, ফুটপাত দখল, অবৈধ হকার বসানো কিংবা এদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা—কিছুই বরদাশত করা হবে না। কোথাও যদি আমি উচ্ছেদ করে দিয়ে আসার পর আবার হকার বসে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সুপারভাইজারের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহল চাপ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। বিষয়টি গোপন রাখা বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। চাপের কথা আমাকে জানালে আমি ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। কিন্তু জানানো ছাড়া অবৈধ হকার বসতে দিলে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরীসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা -কর্মচারীবৃন্দ।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top